সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের

নিরবচ্ছিন্ন ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

যশোর-৬ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করে। বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ওইদিন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।’

সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সরকার একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের অপচয় ও অবৈধ ব্যবহার রোধে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।’

সরকার বর্তমানে দেশের ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাস ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করছে। 

সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ থেকে সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও বর্তমানে ২০টি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন চলছে।’ 

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘উৎপাদনশীল গ্যাস ক্ষেত্রগুলো হলো তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, সিলেট, কৈলাসটিলা, রশিদপুর, বিয়ানীবাজার, সালদা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, শাহবাজপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেমুতাং, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার, জালালাবাদ ও বাঙ্গুরা।’ 

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতাহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যেই ২৯টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি কূপে কাজ চলছে। অবশিষ্ট কূপগুলোর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ 

রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঁচটি ড্রিলিং রিগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ২ হাজার অশ্বশক্তি ও ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির আরো দুটি ড্রিলিং রিগ কেনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু নেই।’

তিনি জানান, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৮৬ মেগাওয়াট এবং আশুগঞ্জের প্রিসিশন এনার্জি লিমিটেডের ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্র দুটি বর্তমানে চালু রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (৮৬ মেগাওয়াট) এবং প্রিসিশন এনার্জি লিমিটেড, আশুগঞ্জের (৫৫ মেগাওয়াট) সঙ্গে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্র দুটি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু না থাকায় এসব কেন্দ্রের বিপরীতে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে না।’

আরও